ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুর সাবরেজিস্টার অফিসে নকলনবিশ আওলাদগং এর রমরমা ঘুষ বাণিজ্য!

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 15, 2026 ইং
মোহাম্মদপুর সাবরেজিস্টার অফিসে নকলনবিশ  আওলাদগং এর রমরমা ঘুষ বাণিজ্য! ছবির ক্যাপশন:
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী:
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের উমেদার মূলত কোনো আইনি পদ নয়, বরং তারা মৌখিকভাবে বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক (কখনো মাত্র ৬০ টাকা বা অনির্ধারিত) চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মচারী। তারা দলিল লেখক বা সাব-রেজিস্ট্রারের আদেশে অফিসে দাপ্তরিক কাজের সহায়তা করার পাশাপাশি ঘুষ আদান-প্রদান ও অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে [১, ৮, ১৪]। 
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের উমেদার সম্পর্কে মূল বিষয়:
নিয়োগের ভিত্তি: কোনো স্থায়ী বা সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই সাব-রেজিস্ট্রার বা দলিল লেখকদের মাধ্যমে এরা "উমেদার" বা সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে [১, ৮]।
দায়িত্ব: দলিলপত্র আনা-নেওয়া, সিরিয়াল বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ফাইলের কাজে অফিসের কর্মচারী ও দলিল লেখকদের সহায়তা করা।
আইনি অবস্থান: এরা সরকারি কর্মচারী নন, তাই তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা কাজের পরিধি আইনিভাবে সংজ্ঞায়িত নয়।
দুর্নীতি ও অনিয়ম: উমেদারদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তারা দলিল লেখকদের হয়ে সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘুষ প্রদান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে [১, ৩]।
নিয়ন্ত্রণ: সাধারণত সাব-রেজিস্ট্রার বা অফিসের প্রধান সহকারী তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন [১]। 
সতর্কতা:
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল বা অন্যান্য কাজ করার সময় অফিসিয়াল ফিস ছাড়া যে কোনো উমেদার বা কর্মচারীকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। সব কাজ, বিশেষ করে দলিলের ফিস ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়া উচিত [১১]। তবে আওলাদ হোসেন গংদের চিত্র ভিন্ন। ওপেন ঘুষ নেওয়ার ভিডিও এসেছে আমাদের হাতে। এই আওলাদ হোসেনগং বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির ছত্রছায়ায় তেজগাঁও রেজিস্ট্রার অফিসে উমেদার ও নকলনবিশ হলেও সে চালাতেন ইস্টিম রোলার। তখন এই আওলাদ বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না অন্য সব সাব রেজিস্ট্রার অফিসের নকল নবিশ ও উমেদাররা। এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য সাধারণ নকলনবিশ ও উমেদার। 
বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির সাথে সক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন পোষ্টার, ফেস্টুন থেকে। আওয়ামী সরকারের পতন এর পর ডক্টর ইউনুস এর সরকার চলে গেলেও বহালতবিয়তে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদ সহযোগী এই আওলাদ বাহিনী। মোহাম্মদ পুর সাব রেজিস্টার অফিসে দলিল রেজিষ্ট্রেশন করতে হলে সরকারী ফির বাহিরে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা। আর তা না হলে পোহাতে হয় অনেক অহেতুক জ্বালা-যন্ত্রনা। যেমন পর্চা নয় ছয়, খাজনা সমস্যা, মালিকানা ঝামেলা, দাগ খতিয়ান ঠিক নাই উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে এমন সব অভিযোগ এনে হাতিয়ে নেয়া মোটা অংকের টাকা। আর যদি টাকা দেওয়া হয় তাহলে নাল জমিকে খাল, ভিটারে নাল, আবাসিকরে অনাবাসিক করে সরকারি ফি কমিয়ে দেওয়া হয় দলিল। এই ৬০ টাকা ডেইলি হাজিরার উমেদার ও নকলনবিশ চড়েন দামী গাড়ি, থাকেন আলিসান ফ্ল্যাটে, ইচ্ছে হলেই কারণে-অকারণে ভ্রমণ করে বিদেশে। এদের রয়েছে বিশাল সম্পদের পাহাড়। 
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিগত ১৮/৩/২০২৬ তারিখ গুলশান অফিসের নকল নবিশ এর নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবির অভিযোগে তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। যার নং ১০, আওলাদ হোসেন ও তার সহোদর ভাই মোহাম্মদ আকিব গংদের বিরুদ্ধে । তবুও থেমে নেই এই দুর্ধর্ষ নকলনবিশ আওলাদ হোসেন গং। শুধুই মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্টার অফিস নয় ঢাকার সকল সাবরেজিস্ট্রার অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগী নির্যাাতিত প্রতারিত অন্যান্য নকলনবিশ ও উমেদারদের। তবে এরা কেউ বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নয়, যা সরকারের গেজেট অনুযায়ী দেখা যায়। কিন্তু এই উমেদার বা নকলনবিশ  সাব রেজিস্ট্রার অফিসের বস। এদের ইশারা ছাড়া কোনো দলিল সই করেন না সাব রেজিস্ট্রার এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। 
 এই সব অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ পুর সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি। যার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। (চলবে...)




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা পেল ০০০১০৩

প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র: প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা পেল ০০০১০৩