সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
একুশে
ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা
দিবস উপলক্ষে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শুক্রবার
(২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার প্রথম
প্রহর থেকেই ফুল হাতে মানুষের
ঢল নামবে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর
শহীদরা সিক্ত হবেন মানুষের শ্রদ্ধা
ও ভালোবাসায়।
রাত
১২টা ১মিনিটে রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা
নিবেদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
এরপর
পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও
মন্ত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা
জানাবেন। একুশে ফেব্রুয়ারি সারাদিন চলবে শ্রদ্ধা নিবেদন।
সরেজমিনে
গিয়ে দেখা যায়, শহীদ
মিনার ঘিরে কয়েকদিন ধরেই
চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের চারুকলা
অনুষদের চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী রং-তুলির ছোঁয়ায়
বেদি ও প্রাঙ্গণ সাজিয়ে
তুলেছেন।
মূল
বেদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি চারপাশে
আঁকা হয়েছে আলপনা। দেয়ালে লেখা হয়েছে বর্ণমালা
ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক
গ্রাফিতি। পুরো এলাকায় তৈরি
হয়েছে এক কর্মমুখর পরিবেশ।
চারুকলা
অনুষদের শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম
সোহেল বলেন, কাজ চলমান।
আমাদের
প্রায় তিনশ শিক্ষক ও
শিক্ষার্থী কয়েকদিন যাবৎ কঠোর পরিশ্রম
করে কাজ গুছিয়ে এনেছেন।
আমরা ইতোমধ্যে শহীদ মিনারে প্রবেশের
দুই গেটের জন্য দুটি তোরণ
তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছি।
আশা করছি, রাত ১২টার আগে
শহীদ মিনারের আশপাশের রাস্তার আলপনা আঁকা শেষ করে
কাজ সমাপ্ত করতে পারবো। নিরাপত্তা
নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে
ইনার ও আউটার পেরিমিটার।সকাল
থেকেই শহীদ মিনারের পুরো
প্রাঙ্গণ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিটি কোণায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তা দায়িত্ব
পালন করছেন। পুরো এলাকা সিসিটিভি
নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
দুপুরে
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম
শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে কোনো
সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে সম্ভাব্য
যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এর
আগে সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত
আলী বলেছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা
নিবেদন উপলক্ষে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রায়
১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার
স্বার্থে সন্ধ্যার পর ঢাবি এলাকায়
সর্বসাধারণের প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে
বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যরা আরও জানান, এলাকায়
কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে ফুট
পেট্রোল, গাড়ি টহল ও
স্ট্রাইকিং রিজার্ভ মোতায়েন থাকবে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট,
ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে
গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
আমরা এবার খুব ভালো
প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা আশা করছি,
রাজধানীবাসী সুশৃঙ্খল ও নিরাপত্তার সঙ্গে
এই শহীদ দিবস পালন
করতে পারবেন। নাউ উই আর
রেডি টু গো।
রমজান
মাস চলায় জনসমাগম কিছুটা
কম হতে পারে বলে
সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা থাকলেও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের আবেগ ও অংশগ্রহণে
কোনো ঘাটতি হবে না বলেই
প্রত্যাশা করছেন অমর একুশের আয়োজক
কমিটির সদস্যরা।