ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এলজিইডি প্রকৌশলী বাচ্চুর দুর্নীতিতে আটকে ঢাকার শতাধিক স্কুল নির্মাণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 15, 2026 ইং
এলজিইডি প্রকৌশলী বাচ্চুর দুর্নীতিতে আটকে ঢাকার শতাধিক স্কুল নির্মাণ ছবির ক্যাপশন: সচিবের কাছে প্রাথমিকের ডিজির চিঠি
ad728
সুমি রহমান॥ 
গত ১৫ মার্চ খোদ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) চিঠি লিখেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে। সে চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঢাকার শতাধিক স্কুলের নির্মাণ কাজ আটকে আছে। চিঠিতে জানানো হয়, ওই প্রকল্পে মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই স্কুলগুলোর নির্মাণ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এমন পরিস্থিতিতে তা কোনোভাবে সম্ভব নয় বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি। অন্যদিকে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নেওয়ার দায়ে ইতিমধ্যে ঢাকা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়াসহ চারজনের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হয়েছে। এই বাচ্চু মিয়া এলজিইডিতে বহুল আলোচিত ক্ষমতাবান এক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ইতিমধ্যে। তিনি এতোটা ক্ষমতাবান যে, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী পদ থেকে তাকে এ বছরের জানুয়ারিতে সরানোর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও সেই প্রজ্ঞাপন এক মাস পরে বাতিল করে তাকে আবারও বসানো হয় একই পদে। অবশ্য সর্বশেষ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে দুর্নীতিবাজ আব্দুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটার পরিস্থিতিতে বাচ্চু মিয়ারও ক্ষমতার অবনতি ঘটেছে। গত সপ্তায় তাকে আবার ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়ায় বদলি করতে বাধ্য হয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘাটতি-দুর্নীতি ও জড়িতদের তথ্য
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গত ১৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যে চিঠিটি দেন তাতে “ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপণ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন।
চিঠিতে জানানো হয়, প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৩৭২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩২টি বিদ্যালয় পুনঃ নির্মাণ, ১৪টি নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ ও ১০টি বিদ্যালয় মেরামত, ১৪৬টি বিদ্যালয়ে ফার্নিচার সরবরাহ, ১২ হাজার ৩৪৮ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং ১১০টি বিদ্যালয়ের প্রধান গেইট নির্মাণ। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ২৮শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ১৭ শতাংশ। ১৩২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৩টি বিদ্যালয়ের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ৮৯টি বিদ্যালয়ের কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে ১০টির অগ্রগতি শূণ্য। এ অবস্থায় বাকি পুরো কাজ ২০২৭ এর জুনের মধ্যে সমাপ্ত করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এই প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এলজিইডি, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার অধীনে।
প্রকল্প পরিচালকের তথ্যানুসারে, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর সভাপতিত্বে এবং প্রকল্প পরিচালকের উপস্থিতিতে একাধিক সভা হয়েছে এবং কম অগ্রগতি সম্পন্ন অথবা বন্ধ কাজগুলোর ব্যাপারে যে সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার ছিল, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়নি। ফলে কাজের অগ্রগতি সময়ের সঙ্গে উরেøখযোগ্যভাবে বাড়েনি। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার সভাপতিত্বে প্রতিমাসের এডিপি পর্যালোচনা সভার কাজ সমাপ্তির মাসিক টার্গেট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্জন করতে না পারায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এছাড়াও ওই সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী অধিকাংশ সময় উপস্থিত থাকেন না। এই চিঠিতে সরাসরি বলা হয়, ‘উপদেষ্টা মহোদয়, কাজের অগ্রগতি এবং তার অনুপস্থিতিতে নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।’ ফলশ্রুতিতে তিনি মাসিক এডিপি পর্যালোচনা সভায় ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেন।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ওই প্রকল্পে এডিপির বরাদ্দ ছিল ৪৫০ কোটি টাকা। কিন্তু কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় সংশোধিত এডিপি লক্ষ্যমাত্রা ২৭১.২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মার্চ পর্যন্ত খরচ হয়েছে মাত্র ৪৫.৫২ কোটি টাকা। ফলে এ অর্থ বছরেও আরএডিপি শতভাগ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পাদিত কাজের অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি, ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ছাবের আলী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামস জাবেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি আবু নূর মো. শামসুজ্জামান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, “প্রকল্পের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঢাকা’কে ফোন করলে অনেক সময় তিনি ফোন রিসিভ করেন না। এমনকি প্রকল্প সাইটে কোন সমস্যা হলে ঠিকাদাররা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত পায় না বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ বেশকিছু কাজ বন্ধ আছে এবং কিছু কাজের অগ্রগতি খুবই মন্থর। কিন্তু এসব ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় গত ১১ জানুয়ারি. ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়াকে বদলি করে এলজিইডি সদর দপ্তরে সংযুক্তি করা হলেও ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সেই আদেশ বাতিল করে পুনরায় তাঁকে আগের পদে বহাল রাখা হয়।”
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন খুবই চ্যালেঞ্জিং। নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রকল্প বাস্তবায়নে উদাসীনতা/অবহেলার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নতুন ভবনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক ছাত্র-ছাত্রী স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনা এবং প্রকল্পের স্বার্থে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীকে অধিকতর আন্তরিক ও নিবেদিত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। অন্যথায় আরএডিপি ও প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।” প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
জমি জটিলতায় নির্মাণকাজ বন্ধ
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় অবস্থিত নীলক্ষেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই প্রাঙ্গণে রয়েছে নীলক্ষেত হাই স্কুল। আগে এখানে বালক ও বালিকা আলাদা দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। পরে প্রতিষ্ঠান দুটিকে একীভূত করা হয়। এখন বিদ্যালয়টির পুরোনো জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জায়গার মালিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি মিললেও পুরোনো ভবনের জায়গায় খেলার মাঠ করার দাবি তুলেছে নীলক্ষেত হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই বিরোধের জেরে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এতে করে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে গেছে।
নীলক্ষেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জান্নাতুন নাঈমা বলেন, ‘ভবন ভাঙার পরে এখানে খেলার মাঠ তৈরির দাবি করছে নীলক্ষেত হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত ভবনের কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ৩০০ থেকে ১৮০ জনে ঠেকেছে। তিন শিফটে ক্লাস নিলেও উপস্থিতি অনেক কম।’
একই ধরনের পরিস্থিতি বিমানবন্দর থানা এলাকার শৈলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলটির জমির মালিক বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলার পর নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আপত্তি জানায় বিমানবাহিনী। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
শৈলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘জমির মালিক বিমানবাহিনী। গত বছর স্কুলের ভবন ভাঙার পর থেকে পাশের বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচটি কক্ষে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস চলছে। তবে বিকালে ক্লাস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম। গত বছর শিক্ষার্থী ছিল ৪৫০ জন, এ বছরের শুরুতে এ সংখ্যা ৩৮০ জনে ঠেকেছে। বিমানবাহিনী স্কুলের জন্য আরেকটি জায়গা দিতে চেয়েছে, তবে সেটি হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু হবে না। স্কুল ভবন অনিশ্চিত হওয়ায় যত দিন যাচ্ছে ততই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।’
পশ্চিম ভাষানটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও প্রায় একই। স্কুলটির জমির মালিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। তাদের আপত্তিতে পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় রাজধানীর অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলার পর নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি বা মাঝপথে থেমে আছে কাজ। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় অস্থায়ী কক্ষে কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের কক্ষে ক্লাস করতে হচ্ছে।
কাজ না করেই কোটি টাকার বিল
প্রকল্পে ধীরগতির পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। গত বছরের ২৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অভিযানে রাজধানীর গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগ, ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বাস্তব নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হলেও তা সম্পন্ন দেখিয়ে মেজারমেন্ট বুকে উরেøখ করা হয়। পরে সেই দেখানো কাজের ভিত্তিতে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকার অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করা হয়।
এ ঘটনায় ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ছাবের আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামস জায়েদ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলীর স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন নির্মাণের চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৪১০ টাকা। ২০২৩ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চতুর্থ চলতি বিলের জন্য ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার আবেদন করা হয়। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি। অথচ নথিপত্রে কাজ সম্পন্ন হয়েছে দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।
ক্ষমতার দাপট ও যেভাবে বদলির আদেশ বাতিল
নির্বাহী প্রকৌশলী পদে আছেন মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। পদের হিসাবে তিনি মাঝারি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের এই কর্মকর্তার ক্ষমতার দাপট এতো বেশি যে, সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে কথা বলার আগে ভেবেচিন্তে নেন। দায়িত্বে অবহেলা ছাড়াও বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জাল-জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ চলাকালেই তদন্তের সুবিধার্থে তাকে এলজিইডির ঢাকা জেলা কার্যালয় থেকে এনে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু বাচ্চু মিয়া তা মানতে নারাজ। তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। অপেক্ষা করতে থাকেন নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠনের জন্য। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের দিনই নতুন প্রতিমন্ত্রীর ইচ্ছায় বাচ্চুর বদলির আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। তার মধ্যেই ঘটে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী পদে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ মিয়াকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারি। গোটা সরকারই ওই ঘটনায় নড়ে উঠে। ২৯ মার্চ আব্দুর রশীদ মিয়ার চুক্তি বাতিল করা হয়। তারপর দিনই মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়াকে ঢাকার বাইরে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়। যদিও আব্দুর রশীদ মিয়ার ঘটনার সঙ্গে বাচ্চু মিয়ার ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তবুও উভয়ের ক্ষমতার খুঁটি ছিল একই জায়গায়। তাই আলোচিত বাচ্চু মিয়ার পক্ষে আর জোর করে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।  (ক্রমশঃ)




শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’