বাঘায় অনলাইন প্রতারণা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ তিনজন গ্রেফতার
পুলিশের নিয়মিত অভিযানে মোবাইল জব্দ, আদালতে প্রেরণ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অনলাইন প্রতারণা, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং চুরি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতের পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বাঘা থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের ফকির বাগান পাগলা বাবার দরবার শরীফের সামনে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় অনলাইনের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শিখন উদ্দিন (২২), পিতা মকবুল হোসেন, গ্রাম আড়পাড়া (মিয়াপাড়া), থানা বাঘাকে আটক করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিখন উদ্দিন স্বীকার করে যে, তিনি গত প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস ধরে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ও আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এসব আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে তিনি প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
একই অভিযানে শফিকুল ইসলাম সরকার (৪২), পিতা মৃত আছান সরকার, গ্রাম পাকুরিয়া, থানা বাঘাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালত কর্তৃক এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
এছাড়া, অপর এক অভিযানে শাহেদ রহমান (২১), পিতা ইমারুল ইসলাম, গ্রাম মহদিপুর, থানা বাঘাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি একটি চলমান চুরি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তিনজনকেই রবিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাঘা থানা পুলিশ।